এই ব্যবস্থায় ৮টি পৃথক ক্ষেত্র (কূট) মূল্যায়ন করা হয়, যার মোট মান ৩৬ পয়েন্ট (গুণ)।
৮টি কূট এবং পয়েন্ট বণ্টন
১. বর্ণ (১ পয়েন্ট)• পরীক্ষিত বিষয়: আধ্যাত্মিক অহং, কর্মপ্রবণতা এবং অন্তর্নিহিত স্বভাব।
• মূল ক্ষেত্র: মানসিক সামঞ্জস্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সঙ্গীদের মধ্যে সামাজিক ভারসাম্য।
২. বশ্য (২ পয়েন্ট)
• পরীক্ষিত বিষয়: পারস্পরিক আকর্ষণ, স্নেহ এবং কর্তৃত্বের ভারসাম্য।
• মূল ক্ষেত্র: সম্পর্কের মধ্যে প্রভাবের ভারসাম্য, মানসিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাভাবিক আকর্ষণ।
৩. তারা (৩ পয়েন্ট)
• পরীক্ষিত বিষয়: জন্ম নক্ষত্রের পারস্পরিক প্রভাব এবং ভাগ্য।
• মূল ক্ষেত্র: বিবাহের পর দীর্ঘমেয়াদী সৌভাগ্য, স্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি এবং যৌথ আয়ু।
৪. যোনি (৪ পয়েন্ট)
• পরীক্ষিত বিষয়: সহজাত প্রকৃতি এবং শারীরিক ঘনিষ্ঠতা (প্রাণীর প্রতীক দ্বারা নির্ধারিত)।
• মূল ক্ষেত্র: যৌন সামঞ্জস্য, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা এবং জৈবিক মেলবন্ধন।
৫. গ্রহ মৈত্রী (৫ পয়েন্ট)
• পরীক্ষিত বিষয়: উভয় সঙ্গীর চন্দ্র রাশির অধিপতিদের মধ্যকার বন্ধুত্ব।
• মূল ক্ষেত্র: বুদ্ধিবৃত্তিক বোঝাপড়া, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মনস্তাত্ত্বিক মিল।
৬. গণ (৬ পয়েন্ট)
• পরীক্ষিত বিষয়: আচরণগত প্রকৃতি (দেব, নর বা রাক্ষস)।
• মূল ক্ষেত্র: জীবনযাত্রার সামঞ্জস্য, দৈনন্দিন অভ্যাস, যোগাযোগের ধরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গি।
৭. ভকূট (৭ পয়েন্ট)
• পরীক্ষিত বিষয়: জন্মকালীন চন্দ্র রাশির পারস্পরিক অবস্থান।
• মূল ক্ষেত্র: মানসিক স্বাস্থ্য, দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সমৃদ্ধি এবং বংশবৃদ্ধি।
৮. নাড়ী (৮ পয়েন্ট)
• পরীক্ষিত বিষয়: শারীরবৃত্তীয়, জিনগত এবং শক্তির গঠন (আদি, মধ্য বা অন্ত্য)।
• মূল ক্ষেত্র: জিনগত সামঞ্জস্য, সন্তানসুখ, সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং আয়ু।
প্রাপ্ত স্কোরের অর্থ কী?
• ১৯ পয়েন্টের কম: সুপারিশযোগ্য নয় - অমিলের উচ্চ সম্ভাবনা বা ঘন ঘন বিরোধ হতে পারে।• ১৯ থেকে ২৩ পয়েন্ট: গড় মিল - গ্রহণযোগ্য; তবে পারস্পরিক প্রচেষ্টা ও সমঝোতার প্রয়োজন।
• ২৩ থেকে ৩১ পয়েন্ট: উত্তম মিল - একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি।
• ৩২ থেকে ৩৬ পয়েন্ট: অসাধারণ মিল - বিরল এবং অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ দাম্পত্য সম্পর্ক।
প্রধান দোষ (ব্যতিক্রম এবং সতর্কবার্তা)
সামগ্রিক স্কোর বেশি থাকা সত্ত্বেও, কিছু বড় ভারসাম্যহীনতা (দোষ) সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন:• নাড়ী দোষ: যখন উভয় সঙ্গী একই নাড়ীর (আদি, মধ্য বা অন্ত্য) অন্তর্ভুক্ত হন, তখন এই দোষ হয়। এটি সন্তান লাভ বা শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
• ভকূট দোষ: যখন চন্দ্র রাশিগুলো একে অপরের সাপেক্ষে ২য়/১২শ, ৫ম/৯ম, অথবা ৬ষ্ঠ/৮ম অবস্থানে থাকে, তখন এটি ঘটে; যা আর্থিক বা মানসিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে।
• গণ দোষ: যখন স্বভাবে উল্লেখযোগ্য বিরোধ থাকে (যেমন, দেব বনাম রাক্ষস), তখন এই দোষ ঘটে, যা দৈনন্দিন যোগাযোগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ধৈর্যের দাবি রাখে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: গ্রহের অধিপতি, বৃহস্পতির দৃষ্টি বা নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বহু দোষেরই নির্দিষ্ট জ্যোতিষীয় প্রতিকার বা খণ্ডন (দোষ ভঙ্গ) হয়ে থাকে।
আপনার বিনামূল্যে কুষ্ঠি তৈরি করুন
পরবর্তী পাঠ: জ্যোতিষশাস্ত্রীয় প্রতিকারের (উপায়) মূল বিষয়সমূহ